‘অন্ধকারকে ভয় পায় এমন মানুষদের বানানো রূপকথা,পরকাল’– স্টিফেন হকিং 

বিশেষ প্রতিবেদন,ত্রিপুরা পাবলিক ওপিনিয়ন :

পরকালের ধারনাকে রূপকথা বলে মনে করতেন বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং। তাকে নিয়ে নির্মিত “হকিং” নামের একটি প্রামাণ্যচিত্রের উদ্বোধনী প্রদর্শনীতে উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেছিলেন হকিং। হকিং জানান,পরকাল বলে কিছু নেই এই ধারণা থেকেই নিজের পক্ষাঘাতগ্রস্ত শরীরের বিরুদ্ধে সারা জীবন ধরে লড়াই করে গেছেন তিনি। “সারা জীবন ধরে অকাল মৃত্যুর হুমকির মধ্যে তিনি  জীবনযাপন করেছেন, তাই সময় নষ্ট করাকে ঘৃণা করতেন।” “হকিং” প্রামাণ্যচিত্রে বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত এই তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী বলেছেন,মৃত্যুতে ভয় পেতেন না তিনি। প্রামাণ্যচিত্রটির প্রদর্শনী শেষে উপস্থিত দর্শকদের তিনি বলেন, অন্ধকারকে ভয় পায় এমন মানুষদের বানানো রূপকথা হল পরকাল। তিনি বলেন, “আমি মনে করি মস্তিষ্ক কম্পিউটারের মতোই মনের একটি কর্মসূচী (প্রোগাম), তাই তাত্ত্বিকভাবে কম্পিউটারে মস্তিষ্কের প্রতিলিপি তৈরি করা সম্ভব, আর এভাবে মৃত্যুর পরেও একটি জীবনকে ধরে রাখা যায়। তবে এখনও পর্যন্ত এটি আমাদের আয়ুষ্কাল ও সামর্থ্যের বাইরে আছে।” ৭১ বছর বয়সী বিজ্ঞানী  ছিলেন বিশ্ব সৃষ্টি ও ভৌত-প্রাকৃতিক নিয়ম নিয়ে আলোচনা করা শীর্ষ বিক্রিত বই “অ্যা ব্রিফ হিস্টরি অফ টাইম” (কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস) এর লেখক। মৃত্যুর কিছুদিন আগেই তিনি গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিদের ‘স্বেচ্ছামৃত্যু’র পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। ২১ বছর বয়স থেকেই দূরারোগ্য মটর নিউরন রোগে ভুগছেন তিনি। ওই বয়সে তাকে জানানো হয়েছিল আর মাত্র দুই কি তিন বছর বাঁচবেন তিনি। কিন্তু সব ভবিষ্যদ্বাণীকে ভুল প্রমাণ করে বছরের পর বছর ধরে তিনি বেঁচে ছিলেন ।

কর্পোরেশনের অবহেলায় বিবেকানন্দ ময়দানের উল্টোদিকে সবুজ গাছগুলি বিবর্ন

ত্রিপুরা পাবলিক ওপিনিয়ন রিপোর্টার :

সবে কদিন গেল বিশ্ব পরিবেশ দিবস ঘটা করে পালিত হয়েছে । গাছ লাগাও প্রাণ বাঁচাও । একটি গাছ একটি প্রান । বন মহোৎসবে বা বিশ্ব পরিবেশ দিবসে এমন শ্লোগান সচরাচর শোনা যায় । চারা গাছ রোপন করার হিড়িক লাগে । রাস্তায় বর্নাঢ্য ব্যালি করা হয় । লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করা হয় । কিন্তু তারপর সেগুলির খোঁজ আর কে রাখে ? রাজধানীর উপকন্ঠে অরন্য ভবন থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরত্বে,বিবেকানন্দ ময়দানের উল্টো দিকে সবুজ গাছ গুলি এখন বিবর্ন রূপ ধারন করেছে । গ্রীষ্মে প্রখর রৌদ্র থেকে পথিককে ছায়া প্রদান করে এই গাছগুলি । এমনিতে শহরে গাছের সংখ্যা প্রায় প্রতিদিন কমছে । অথচ বন দফতর ও আগরতলা মিউনিসিপাল কোর্পোরেশনের অবহেলায়, সরকারি জায়গায় এবং রাস্তার ধারে বহু সংখ্যক বড় বড় বৃক্ষের অস্তিত্ব আজ সংকটে । মূলতঃ দেখভালের অভাবে ইট কংক্রিটের বেড়া জালে এই গাছগুলি এখন প্রায় শুস্ক তরুবরে পরিনত ॥ এ ব্যাপারে কারো হেলদোল নেই ।

ইমরানের সামনেই বক্তৃতায় সন্ত্রাসবাদ নিয়ে সরব মোদী

বিশেষ প্রতিবেদন :
সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের শীর্ষ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী
পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সামনেই রাষ্ট্রীয় মদতপ্রাপ্ত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরব হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর দ্বিতীয় ইনিংসের গোড়াপত্তন থেকেই সন্ত্রাসবাদ নিয়ে বিদেশের মাটিতে ধারাবাহিক ভাবে কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন মোদী। প্রথম দু’টি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে (মলদ্বীপ এবং শ্রীলঙ্কা) তাঁকে দেখা গিয়েছে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে একজোট হওয়ার প্রশ্নটিকেই সামনে নিয়ে আসতে। বিশকেক-এও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তবে তফাত এটাই যে, এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন খোদ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। শুধু মোদীর বক্তৃতাতেই নয়, এসসিও-র ঘোষণাতেও সন্ত্রাসবাদ এবং চরমপন্থার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কথা বলা হয়েছে। কোথাও পাকিস্তানের নাম করা হয়নি। বলা হয়েছে, ‘সাংহাই কোঅপারেশনের বিশকেক ঘোষণাপত্রে সন্ত্রাসবাদ এবং চরমপন্থাকে মেনে না-নেওয়ার প্রশ্নে সব রাষ্ট্রপ্রধান একমত হয়েছেন। নিরাপত্তা এবং কৌশলগত যাবতীয় চ্যালেঞ্জ এখন সীমান্ত পেরিয়ে অন্য দেশে চলে যাচ্ছে। চরমপন্থী চিন্তাভাবনা ছড়িয়ে যাচ্ছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে। গণহত্যার জন্য সামরিক সাজসরঞ্জামের প্রসার ঘটছে, অস্ত্র প্রতিযোগিতা বাড়ছে। এই সব রুখতেই ঘনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। এসসিও-র সদস্য দেশগুলি একযোগে সন্ত্রাসবাদের ঘোর নিন্দা করছে। বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, বিশেকেক ঘোষণা আসলে মোদীর জয়। কারণ প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় যে বিষয়গুলি তুলে ধরেছেন, সেগুলিকেই রাখা হয়েছে যৌথ ঘোষণাপত্রে। বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এই যৌথ বিবৃতির অন্যতম শরিক দেশ পাকিস্তানও। মোদী বলেছেন, ‘‘যে সব দেশ সন্ত্রাসবাদে পুঁজি সরবরাহ করছে, সহায়তা করছে— তাদের দায় নিতে হবে।’’ পাকিস্তানের দিকে তর্জনী নির্দেশ করার পাশাপাশি মোদী বলেছেন, সন্ত্রাসবাদকে সমূলে উৎপাটিত করার জন্য একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন করা হোক। এসসিও-র মূল শক্তি এবং দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়েও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বলেছেন তিনি। মোদীর কথায়, ‘‘গত রবিবার আমার শ্রীলঙ্কা সফরের সময়ে আমি সেন্ট অ্যান্টনিস চার্চে গিয়েছিলাম। সন্ত্রাসবাদের নগ্ন রূপ সেখানে দেখেছি।’’ জঙ্গিবাদ-বিরোধী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের কথা উল্লেখ করে মোদী বলেছেন, সাহিত্য এবং সংস্কৃতি সমাজকে একটি ইতিবাচক দিশা দেখায়। যুবকদের মধ্যে চরমপন্থার প্রসারকে আটকায়।

 

  

আয়ুষ্মান কার্ড জালিয়াতি,যুবকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করলো মহিলা

ত্রিপুরা পাবলিক ওপিনিয়ন রিপোর্টার : 

আযুষ্মান কার্ড  জালিয়াতির দায়ে এক যুবকের নামে রাধাকিশোরপুর থানায় মামলা করলো মহিলা। পুরো বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়েছে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে। ঘটনা, উদয়পুর মাতাবাড়ি এলাকায় । ঘটনায় চাঞ্চল্য গোটা এলাকায় । উদ্বিগ্ন সংস্লিষ্ট দফতরের আধিকারিক ।  ঘটনার বিবরণে জানা যায়, দক্ষিণ মাতাবাড়ির দাতারাম  এলাকার বাসিন্দা গীতা শর্মা,স্বামী শচীন্দ্র শর্মা  মাতাবাড়ি বাজার এলাকার এক  তথ্য মিত্র কেন্দ্রে গিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ুস্মান প্রকল্পের জন্য স্মার্ট কার্ড করার জন্য প্রয়োজনীয়  কাগজপত্র জমা দেন । কিন্তু জমার  অনেক দিন অতিক্রান্ত  হয়ে গেলেও স্মার্ট কার্ড তিনি হাতে পান নি । ওনার বক্তব্য, ওই   সিএসসি  সেন্টারের  মালিক কমল কান্তি দে  ইন্টারনেটজনিত সমস্যার অজুহাত দেখিয়ে  হয়রানি করে যাচ্ছিলো দিনের পর দিন । পরে তিনি ওই যুবককে ওনার এবং ওনার স্বামীর আযুষ্মান কার্ড ইস্যুর  জন্য  যেখানে ধার্য্য সার্ভিস ফি মাত্র ষাট টাকা দেওয়ার কথা সেখানে দুই দফায় ছয়শো টাকা উৎকোচ হিসেবে তাকে  প্রদান করেন। কিন্তু ওই যুবক টাকা পেয়ে তড়িঘড়ি করে অন্য এক ব্যক্তির আইডি নম্বর / PZJH4SM06PRN26PPK9  ব্যাবহার করে জাল স্মার্ট কার্ড গীতা দেবীর হাতে ধরিয়ে দেন। কার্ড হাতে পেয়ে কয়েকদিন পর তিনি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পরিষেবা নিতে গেলে প্রতারনার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তারপরই আর কে পুর থানায় ওই প্রতারকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয় ।  ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই জেলা প্রশাসন অভিযুক্ত 244563730011 আইডি নম্বরের সিএসসি  সেন্টারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ সহ  সেন্টারের আইডি বাতিলের জন্য প্রয়োজনীয়  উদ্যোগ নিয়েছে । তবে জেলাশাসক টিকে দেবনাথ মহকুমা পুলিশ আধিকারিক  হিমাদ্রি প্রসাদ দাসকে  আযুষ্মান কার্ড জালিয়াতি ইস্যুতে সিএসসি সেন্টারের কর্নধার ও অভিযোগকারিনী উভয়কেই  তদন্তের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন ।  শুক্রবার  জাতীয় স্বাস্থ্য প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এমন গুরুতর  অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন ।